
ইকুয়েডরের বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ (আইসিই) তাকে ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।
ইকুয়েডরের প্রশাসনিক সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে সেরানোকে বহনকারী বিমান গুয়ায়াকিলের জোসে জোয়াকিন দে ওলমেদো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকেই তাকে কড়া পাহারায় ‘এল এনকুয়েন্ত্রো’ নামের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে নেওয়া হয়। ইকুয়েডরের আদালতে তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা ছিল।
সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার শাসনামলে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় পরিষদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন সেরানো। ২০২৩ সালের আগস্টে নির্বাচনি প্রচারণা থেকে বের হওয়ার সময় ঘাতকদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভিলাভিসেনসিও। ওই হত্যাকাণ্ডের সাতজন প্রধান সন্দেহভাজনের তালিকায় নাম রয়েছে সেরানোর।
সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, সেরানো কুখ্যাত মাদক চোরাচালানকারী চক্র ‘লস লোবোস’-এর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ভিলাভিসেনসিওর নিরাপত্তা ও চলাফেরার গোপনীয় তথ্য পাচার করেছিলেন, যা পরবর্তীতে এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান পাবলো সেগুরা এই বিষয়ে জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত এবং দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত সেরানোকে নিজ দেশে বিচার মুখোমুখি করতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো বিদেশি অপরাধীর নিরাপদ আশ্রয় হবে না, এই পদক্ষেপ তারই প্রমাণ।
সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরানোর ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইকুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসিকতা করে সেরানোকে এল এনকুয়েন্ত্রো কারাগারের ‘নতুন অতিথি’ বলে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে বেলজিয়ামে অবস্থানরত সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, ‘এবার আপনার পালা।’
অন্যদিকে নিহত ভিলাভিসেনসিওর দুই কন্যা আমান্ডা ও তামিয়া সেরানোর ইকুয়েডরে প্রত্যাবাসনকে স্বাগত জানিয়ে একে বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন। তবে সেরানোর পরিবারের পক্ষ থেকে ইকুয়েডরের কারাগারে তার জীবন ও সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল হওয়ার পর ইকুয়েডরের আদালতের কাটগড়ায় এবার মুখোমুখি হবেন আলোচিত এই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরটিভি/এআর




